অনলাইনে কিভাবে পাসপোর্ট চেক করে
পাসপোর্ট হল সরকার কর্তৃক অনুমোদিত একটি নথি বা পরিচয় পত্র। যা
আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সময় ভ্রমণকারীর পরিচয় এবং জাতীয়তা নিশ্চিত করে। এটি
বিদেশে চলাফেরা অবস্থান করার ক্ষেত্রে যেমন কাজে লাগে সেই সাথে সেখানকার সুযোগ
সুবিধা পেতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশের সাধারণত তিন ধরনের পাসপোর্ট হয়ে থাকে এর মধ্যে হচ্ছে সাধারণ পাসপোর্ট
অফিসিয়াল পাসপোর্ট এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট। পাসপোর্ট এর সাধারণত ভ্রমণকারীর নাম
ঠিকানা জন্মতারিখ ছবি ইত্যাদি তথ্য দেয়া থাকে বর্তমানে আধুনিক
পাসপোর্ট গুলোতে বায়োমেট্রিক দেয়া থাকে।
পেজ সূচিপত্রঃঅনলাইনে কিভাবে পাসপোর্ট চেক করে
- আবেদনের বর্তমান অবস্থা এবং এর বিস্তারিত অর্থ
- চেক করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য কোথায় পাবেন?
- পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য
- পাসপোর্ট রিলিজ বা সংগ্রহের সময় করণীয়
- পাসপোর্ট স্ট্যাটাস দীর্ঘদিন আটকে থাকলে করণীয়
- এসএমএস এর মাধ্যমে চেক করার নিয়ম
- পাসপোর্ট কে সংগ্রহ করতে পারবে?
- অফিসিয়াল যোগাযোগের তথ্য
- শেষ কথাঃ কিভাবে অনলাইনে পাসপোর্ট চেক করা যায়
আবেদনের বর্তমান অবস্থা এবং এর বিস্তারিত অর্থ
অনলাইনে পাসপোর্ট চেক করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে
পারে। পাসপোর্ট চেক করার সময় আপনার পাসপোর্ট একেক সময় একেক অবস্থায় থাকতে
পারে। ইনরোলমেন্ট ইন কমপ্লিট, যা দ্বারা বোঝানো হয় আপনার পাসপোর্টটি সফলভাবে
আবেদন করা হয়নি অথবা পাসপোর্টে ছবি অথবা আঙ্গুলের ছাপ দেওয়া হয়নি। পেন্ডিং
পুলিশ ভেরিফিকেশন, অর্থাৎ আপনার তথ্য যাচাইয়ের জন্য পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ
কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পুলিশ আপনার তথ্যটি যাচাই করে দেখবে।
পেন্ডিং পুলিশ ভেরিফিকেশন আপিল, অর্থাৎ পুলিশ ভেরিফিকেশন এর সময়
আপনার তথ্যের কোন ভুল বা সমস্যা দেখা দিয়েছে তা পুনরায় পর্যবেক্ষণ করার
জন্য পাঠানো হয়েছে। এপ্রুভ, পুলিশ ভেরিফিকেশন সকল হয়েছে এবং আপনার পাসপোর্ট
এর আবেদনটি মূল কেন্দ্রে আবেদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। পেন্ডিং প্রিন্টিং, আপনার
পাসপোর্টটি প্রিন্টিং এর জন্য পাঠানো হয়েছে। শিফটিং,কেন্দ্রীয় শাখা থেকে
আপনার পাসপোর্টটি নিজ জেলার পাসপোর্ট অফিসে পাঠানো হয়েছে। রেডি ফর
ইস্যুয়েন্স,অফিসিয়াল যোগাযোগের তথ্য।
আরও পড়ুনঃ টেবিল তৈরির ক্লাস
চেক করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য কোথায় পাবেন ?
পাসপোর্ট চেক করার জন্য সাধারণত দুইটি এর প্রয়োজন পড়ে ।এপ্লিকেন্ট আইডি অথবা
অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আইডি।
এপ্লিকেন্ট আইডি, পাসপোর্ট অফিসে আঙুলের ছাপ এবং ছবি প্রদানের পর যে মূল
ডেলিভারি স্লিপ প্রদান করা হয় তার ওপরের ডান দিকে বারকোডের নিচে এপ্লিকেন্ট
আইডি নম্বর দেয়া থাকে।
অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আইডি, যখন অনলাইনে আবেদন করা হয়। তখন আবেদন ফরম এর একদম
উপরে OID দিয়ে শুরু হওয়া নাম্বার টি হলো অনলাইন রেজিস্ট্রেশন নম্বর।
পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য
পুলিশ ভেরিফিকেশন পাসপোর্ট এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুলিশ
ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব নয়। পেন্ডিং পুলিশ
ভেরিফিকেশন আসার ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আপনার এলাকায় দায়িত্বরূপ পুলিশ
কর্মকর্তা আপনার সাথে যোগাযোগ করবে এবং আপনার এনআইডি কার্ড চারিত্রিক সনদ
আপনার ঠিকানার সত্যতা এবং জন্ম বৃত্তান্ত সকল কিছু তদন্ত করতে শুরু করবে।
পাসপোর্ট রিলিজ বা সংগ্রহের সময় করণীয়
আপনার আবেদনের অবস্থা যখন রেডি ফর ইস্যুয়েন্স দেখাবে তখন আপনাকে পাসপোর্ট
অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মূল কপি সহ
পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। বায়োমেট্রিকের ক্ষেত্রে আবারো বিষয়টি খতিয়ে দেখার
প্রয়োজন মনে করতে পারে তাই গ্রাহকের নিজে পাসপোর্ট অফিসে যাওয়া
প্রয়োজন।
আরও পড়ুনঃ বাংলায় ভালো আর্টিকেল লেখার নিয়ম
পাসপোর্ট স্ট্যাটাস দীর্ঘদিন আটকে থাকলে করণীয়
পেন্ডিং পুলিশ ভেরিফিকেশন আসার ৭ থেকে ১৫ দিনের বেশি এই স্ট্যাটাস থাকলে
আপনার স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করুন। অনেক
সময় অফিসার তথ্য আপলোড করতে দেরি করেন।
পেন্ডিং ব্যাকেন্ড ভেরিফিকেশন এর ক্ষেত্রে হতে পারে আপনার এন আইডি কার্ড অথবা
পুরনো পাসপোর্ট এর তথ্যের সঙ্গে কোন অমিল খুঁজে পাওয়া গেছে।ন এটি ৭ দিনের বেশি
সময় ধরে হয়ে থাকলে মূল কাগজ যেমন এনআইডি কার্ড জন্ম নিবন্ধন এর মূল কপি সহ
আপনার স্থানীয় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে করতে হবে।
এসএমএসের মাধ্যমে চেক করার নিয়ম
আপনার কাছে যদি ইন্টারনেট বা স্মার্টফোন না থাকে তাহলে সাধারণ ফোন থেকে এস এম
এস এর মাধ্যমে আপনার পাসপোর্ট চেক করা যাবে। সে ক্ষেত্রে আপনার মোবাইলের মেসেজে
ই-পাসপোর্ট <স্পেস> অ্যাপ্লিকেশন আইডি লিখেপাঠিয়ে
দিন ৬৯৬৯ নম্বরে। ফিরতি এসএমএস এর মাধ্যমে আপনার পাসপোর্টটি কোন
অবস্থায় রয়েছে সে সম্পর্কে আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
পাসপোর্ট এর সংগ্রহ করতে পারবে?
পাসপোর্ট মুল মালিকের স্ব-শরীরে গিয়ে গ্রহণ করা উত্তম।কেননা অনেক সময়
বায়োমেট্রিক অর্থাৎ আঙ্গুলের ছাপ দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। নিজে না যেতে
পারলে ডেলিভারি স্লিপের পেছনে অনুমোদন পত্র লিখে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া
যেতে পারে। তবে একান্ত নিকট আত্মীয় অর্থাৎ মা-বাবা ভাই বোন কিংবা স্বামী
স্ত্রী দায়িত্ব দেওয়া উচিত। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতিনিধিকে নিজ এনআইডি কার্ড
সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।
অফিসিয়াল যোগাযোগের তথ্য
অনলাইনে কোনো সমাধান না পেলে বা কোনো জরুরি সংশোধনের প্রয়োজন হলে সেই ক্ষেত্রে
হেল্পলাইনে ই-পাসপোর্ট কল সেন্টার নম্বর ১৬৪৪৫ নম্বরে যোগাযোগ করুন অথবা
ই-মেইলে যেকোনো টেকনিক্যাল সমস্যার
জন্য support@epassport.gov.bd ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।
শেষ কথাঃ লেখকের কথা
অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদনের পর পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে শেষ করার জন্য শেষ
মুহূর্তে ডেলিভারি স্লিপটি নিরাপদে রাখুন কারন এটি আপনার একমাত্র প্রমান
।ভুল স্ট্যাটাস বা অবহেলা এড়িয়ে চলুন।ডেলিভারি স্লিপে যে সম্ভাব্য তারিখ দেওয়া
থাকে, সাধারণত ই-পাসপোর্ট তার ১-২ সপ্তাহ পরেই প্রস্তুত হয়। মোবাইলের মেসেজ বা
ওয়েবসাইটের গ্রিন সিগন্যাল (Ready for Issuance) পাওয়ার পরেই কেবল অফিসে গিয়ে
লাইনে দাঁড়াবেন।
আশা করি এই তথ্যগুলো আপনার উপকারে এসেছে। ই-পাসপোর্ট, ভিসা এবং বিভিন্ন অনলাইন
সেবা সম্পর্কে আরও এমন তথ্যমূলক আর্টিকেল পেতে
রেইনউইক্স-এর সঙ্গেই থাকুন। নিজের যত্ন নিন, ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুন। আমাদের সাথে
থাকার জন্য ধন্যবাদ।

.webp)
.webp)
রেইনউইক্সের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url